বিশেষ প্রতিনিধি:
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
লোহাগাড়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি হাজারো মানুষ। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের, গ্রামীণ সড়ক এবং বিভিন্ন অবকাঠামো। পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছে। যেসব পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরেছেন, তারা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন, শিশু খাদ্য এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারকে সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী ও নগদ সহায়তা বরাদ্দের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবানদের আরও বেশি করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সকলের সমন্বিত উদ্যোগেই দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
















