নিজস্ব প্রতিবেদক:
দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি এমপির, বিষয়টি যাচাই করছে দল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জাতীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।ভিডিওটি প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তার দাবি, ২০২৬ সালের ১৭ জুন ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও বৈধ পারিবারিক বিষয়।অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি ২০২৩ সালে ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে—এমন দাবি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ে নিশ্চিত হয়নি।এছাড়া কয়েকটি গণমাধ্যমে আরও প্রকাশিত হয়েছে যে, দ্বিতীয় বিয়ের পর সংশ্লিষ্ট নারীর চাকরির জন্য একটি সুপারিশপত্র দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা আইনি দায় প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এমপি, তার পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে দল প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে।আইন ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

