নিজস্ব প্রতিনিধি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম চলাকালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় এই অ্যাডভেঞ্চার বিনোদনের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এক পর্যটক। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি এবং পর্যটনসেবার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরপরই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নিরাপত্তা সরঞ্জামের অবস্থা এবং পরিচালনা পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। তাই প্যারাসেইলিংসহ সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত কর্মী, নিয়মিত যন্ত্রপাতি পরীক্ষা এবং আবহাওয়া বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে সাধারণ পর্যটকদের অনেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, দেশের পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিটি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের উচিত নিরাপত্তা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা। একই সঙ্গে পর্যটকদেরও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
দেশের পর্যটন খাতকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে প্রশাসন, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটকদের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কার্যকর উপায়।

















