বিশেষ প্রতিনিধি
জয়দেব বাবু
ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি দূরে রেখে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিন ছুটে যান হাজারো ভ্রমণপ্রেমী। আর সেই যাত্রাকে আরও রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় করে তুলেছে ঢাকা সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে চলাচলকারী আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো।
সন্ধ্যা নামতেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল যেন রঙিন আলো আর মানুষের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায়। একে একে বিশালাকৃতির লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে দক্ষিণের পথে যাত্রা শুরু করে। নদীর বুকে শীতল বাতাস, দূরের জেলেদের নৌকার আলো, দুই তীরের নিস্তব্ধ প্রকৃতি এবং রাতের আকাশের অপূর্ব দৃশ্য মিলিয়ে এই ভ্রমণ হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
বর্তমানে এমভি কুয়াকাটা-১, এমভি কুয়াকাটা-২, এমভি সুন্দরবন, এমভি পারাবত, এমভি প্রিন্স অব বরিশাল, এমভি সম্পদ, এমভি বিচসহ বেশ কয়েকটি আধুনিক লঞ্চ ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী ও কলাপাড়া রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। এসব লঞ্চে রয়েছে আধুনিক কেবিন, পরিবারবান্ধব ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবারের সুবিধা এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের আন্তরিক সেবা।
নিরাপত্তার বিষয়েও এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। বড় লঞ্চগুলোতে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ নাবিক ও ক্রু সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পরিবার, নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের জন্যও নদীপথের ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।
ঢাকা থেকে সাধারণত বিকেল ও রাতের মধ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং ভোরে বরিশাল, পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়ায় পৌঁছায়। এরপর অল্প সময়ের সড়কযাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে—যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সৌভাগ্য উপভোগ করা যায়।
ভ্রমণপ্রেমীদের মতে, এই নদীপথ শুধু একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি বাংলাদেশের নদীমাতৃক সৌন্দর্যকে কাছ থেকে অনুভব করার এক অসাধারণ সুযোগ। নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলা লঞ্চ, নির্মল বাতাস এবং প্রকৃতির অপরূপ রূপ যেন প্রতিটি যাত্রাকেই করে তোলে স্মরণীয়।
যাত্রার আগে নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সময়সূচি ও ভাড়ার তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণের জন্য যাত্রীদেরও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে
















