নিজস্ব প্রতিবেদন | ঢাকা | ২৯ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন বুধবার রাতেও অব্যাহত রয়েছে। দিন গড়িয়ে রাত হলেও বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদী স্লোগান ও সমাবেশ চালিয়ে যান। আন্দোলনকারীরা বলছেন, আধুনিক সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের চলাচলসংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ছাত্রী হলের প্রচলিত কারফিউ বা সান্ধ্য আইন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ, প্রশাসনের নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় রাতযাপনের ব্যবস্থা এবং পরিবারের নারী সদস্যদের হলে কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবাসিক হলের নীতিমালা সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন এবং দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে ফলপ্রসূ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। রাত পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দ্রুত সংলাপ হলে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এই আন্দোলন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা, আবাসন নীতিমালা এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখন সবার নজর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির দিকে।
















