নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক আমার স্বাধীনতা
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—তিন প্রজন্মের নেতৃত্ব দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করেছে। �
NENEK303 +1
জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পরবর্তী অস্থির রাজনৈতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে উঠে আসেন। তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক বিদ্রোহের ঘটনায় তিনি নিহত হন। �
The Business Standard +2
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে অর্থনৈতিক উদারীকরণ, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া, সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন নিয়েও ইতিহাসে বিতর্ক রয়েছে। তাই তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়নে অর্জন ও বিতর্ক—দুই দিকই বিবেচনা করা জরুরি।
খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পর ২০ মার্চ ১৯৯১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে যায়। �
Wikipedia +1
খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফায় দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১–১৯৯৬, ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদি বিএনপি সরকার এবং ২০০১–২০০৬। তাঁর প্রথম ও তৃতীয় মেয়াদই ছিল দীর্ঘ; সব মিলিয়ে প্রায় ১০ বছর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সরকারের সময় শিক্ষা, নারীর অংশগ্রহণ, গ্রামীণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক সংঘাত, বিরোধী আন্দোলন ও নানা বিতর্ক তাঁর শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। �
Wikipedia
তারেক রহমান: নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান দীর্ঘ সময় বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে সক্রিয় থাকার পর ২০১৮ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তিনি দলের চেয়ারম্যান হন। �
BSS +1
এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি একই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। �
BSS +1
ইতিহাসের শিক্ষা কী?
জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি শাসন, খালেদা জিয়ার একাধিক মেয়াদের সরকার এবং তারেক রহমানের বর্তমান নেতৃত্ব—প্রতিটি অধ্যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপির সমর্থকদের কাছে এই ধারাবাহিকতা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্তরাধিকার; আবার সমালোচকদের কাছে দলটির বিভিন্ন সময়ের শাসন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন ভিন্ন।
তবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্ধ প্রশংসা কিংবা একতরফা সমালোচনার পরিবর্তে তথ্য, সময়কাল, অর্জন, বিতর্ক এবং জনগণের অভিজ্ঞতা—সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, সেটিও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে তাঁর সরকারের সুশাসন, অর্থনীতি, আইনের শাসন, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বাস্তব ফলাফলে।
প্রতিবেদন: বিশেষ প্রতিনিধি
দৈনিক আমার স্বাধীনতা
“সত্যের পথে, ন্যায়ের সাথে | জনগণের সাথে, দেশের জন্য” �


















