সাত দশকের ঐতিহ্যে উপকূলের শিক্ষার আলোকবর্তিকা
নিজস্ব প্রতিবেদন: আব্দুল্লাহ আল মনির
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নূরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। প্রায় সাত দশকের গৌরবময় পথচলায় বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন অনেক কৃতী ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ। তাঁদের সাফল্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা-মান ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রমাণ।
বিদ্যালয়টিতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে দেশের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইন, সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং, ব্যবসা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়টি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই করছে না, বরং আদর্শ নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠছে।
উপকূলীয় এই অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নূরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষানুরাগীরা বিদ্যালয়টিকে সরকারি করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, সরকারি হলে বিদ্যালয়ে আরও আধুনিক অবকাঠামো, বিজ্ঞানাগার, তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের আরও ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষার আরও বড় সুযোগ পাবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, দেশের জন্য অসংখ্য গুণী নাগরিক গড়ে তোলা এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নূরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করা সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সাফল্য এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত সরকারি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। আর সেই ভিত্তি নির্মাণে নূরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় যে অবদান রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে সাতক্ষীরা তথা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
















