নিজস্ব প্রতিবেদক | রামু (কক্সবাজার)
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার আস্কারকিল চা বাগান এলাকার একজন সুপরিচিত সমাজসেবক ও সফল কৃষক মোহাম্মদ নাজির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। কৃষিকে শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন এবং সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি ধান চাষ, মৌসুমি শাক-সবজি উৎপাদন, মাছ চাষ, গরু পালন, ছাগল পালন এবং কবুতর পালনসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন। তাঁর কৃষি খামার শুধু একটি উৎপাদন কেন্দ্র নয়, এটি এখন এলাকার অনেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
ধানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন। তাঁর মাছের খামারে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়, যা এলাকার পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া গরু ও ছাগলের খামার এবং কবুতর পালন প্রকল্প তাঁর কৃষি উদ্যোগকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তিনি সচেতন। জমি চাষ, সেচ ব্যবস্থা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার করে তিনি অন্যান্য কৃষকদেরও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে উৎসাহিত করছেন। তাঁর মতে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকের শ্রম ও ব্যয়ও কমবে।
শুধু কৃষিতেই নয়, সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও মোহাম্মদ নাজির হোসেনের অবদান প্রশংসনীয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সহায়তা প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের মতে, মোহাম্মদ নাজির হোসেন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও মানবিক মানুষ। তাঁর কৃষি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মকে কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলছে এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
মোহাম্মদ নাজির হোসেন বলেন, “কৃষি ও সমাজসেবা আমার জীবনের অঙ্গীকার। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, তাই কৃষিকে ভালোবাসতে হবে।”
কৃষির বহুমুখীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত সেবার মাধ্যমে মোহাম্মদ নাজির হোসেন আজ রামু উপজেলার একজন অনুকরণীয় কৃষক ও সমাজসেবকে পরিণত হয়েছেন। তাঁর এই সফলতা ও কর্মপ্রচেষ্টা দেশের অন্যান্য কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক আমার স্বাধীনতা
















