প্রতিবেদন: আব্দুল্লাহ আল মনির, প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ সুদে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অনেক নিম্নআয়ের পরিবার, দিনমজুর, কৃষক, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জরুরি প্রয়োজনে টাকা ধার নিতে গিয়ে অতিরিক্ত সুদের চাপে পড়ে আর্থিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অসুস্থতা, শিক্ষা, কৃষিকাজ কিংবা সংসারের জরুরি খরচ মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঋণ নেন। পরবর্তীতে উচ্চ সুদের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণের বোঝা বহন করতে হিমশিম খায়। ফলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে যদি কেউ অন্যায্যভাবে লাভবান হয়, তবে তা সমাজে বৈষম্য ও মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ সুদের কারবার বন্ধে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
অর্থনীতি ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রান্তিক মানুষের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, ক্ষুদ্রঋণ এবং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা গেলে উচ্চ সুদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
নুরনগর ইউনিয়নের সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কোনো দরিদ্র মানুষ যেন অর্থের অভাবে শোষণের শিকার না হন। আইনের সঠিক প্রয়োগ, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব—যেখানে অসহায় মানুষের কষ্টকে পুঁজি করে কেউ অবৈধভাবে লাভবান হতে পারবে না।
— আব্দুল্লাহ আল মনির
প্রতিনিধি


















