নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রতিবেদক: শারিয়া নাঈম মিয়াদ
রাজধানী ঢাকার উত্তরাংশে অবস্থিত উত্তরখান এলাকার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদের নাম চামুরখান। একসময় এটি ছিল শান্ত, কৃষিনির্ভর গ্রামীণ এলাকা। সময়ের পরিক্রমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে আজ চামুরখান একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। বুড়িগঙ্গা, বালু ও তুরাগ নদীকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে জনবসতি গড়ে ওঠে। কৃষি, মৎস্যচাষ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। সেই ঐতিহ্য এখনও এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিতে জীবন্ত।
বর্তমানে চামুরখান প্রশাসনিকভাবে উত্তরখান থানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (DNCC)-এর আওতাভুক্ত। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উত্তরখান এলাকা ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার (২০১১ সালের শেষ ভাগে আইনগতভাবে গঠন এবং ২০১২ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু) পর এ অঞ্চল সিটি করপোরেশনের আওতায় সেবা পেতে শুরু করে।
উত্তরখানের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমে উত্তরা মডেল টাউন, পূর্বে বালু নদী ও পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ, দক্ষিণে দক্ষিণখান এবং উত্তরে টঙ্গী ও গাজীপুর অঞ্চলের সঙ্গে এর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে।
চামুরখানে বর্তমানে অসংখ্য আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উত্তরা এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু সমস্যাও রয়েছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, খাল ও ড্রেন দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু এলাকায় সরু সড়ক এখনও স্থানীয়দের ভোগান্তির কারণ। এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
স্থানীয়দের মতে, চামুরখানে আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, সবুজ পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এটি রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় পরিণত হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুফল ভবিষ্যতে চামুরখানেও আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছাবে। এতে আবাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
চামুরখান আজ শুধু একটি এলাকা নয়; এটি ঐতিহ্য, পরিবর্তন এবং আধুনিক নগরায়ণের এক অনন্য উদাহরণ। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ জনপদ রাজধানী ঢাকার অন্যতম সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য এলাকায় পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।













