বিশেষ প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: গাজী হাফিজুর রহমান, শ্যামনগর প্রতিনিধি
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো ‘টাকা’। কিন্তু এই টাকার ইতিহাস হাজার বছরের বিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। একসময় মানুষ কোনো কাগজের নোট বা ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করত না। তখন চাল, ধান, লবণ, গবাদিপশু, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে কেনাবেচা হতো। পরে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে ধাতব মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলা অঞ্চলে বহু শতাব্দী ধরে রৌপ্য মুদ্রাকে ‘টাকা’ নামে ডাকা হতো। ভাষাবিদদের ধারণা, ‘টাকা’ শব্দটি সংস্কৃত ‘টঙ্ক’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ রৌপ্য মুদ্রা। মধ্যযুগে বাংলার সুলতানি আমলেও ‘টাকা’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি রুপি প্রচলিত ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিকামী বাঙালিরা অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নোটে ‘বাংলাদেশ’ লেখা সিল ব্যবহার করতেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর নিজস্ব মুদ্রা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৭২ সালের ৪ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব কাগজের নোট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। প্রথম পর্যায়ে ১ টাকা ও ১০০ টাকার নোট বাজারে আসে। পরবর্তীতে ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট চালু করা হয়। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক এসব নোট ইস্যু করে এবং সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড নোট মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করে।
বর্তমানে কাগজের নোটের পাশাপাশি ১, ২, ৫ ও ১০ টাকার ধাতব মুদ্রাও প্রচলিত রয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি দেশের নিজস্ব মুদ্রা শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়, বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নিজস্ব ‘টাকা’ চালু হওয়া ছিল দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।














