Tue. Jul 21st, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদন
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো—ছোট শিশুদের হাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার প্রবণতাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় মোবাইলের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে শিশুদের চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বাস্তব জীবনে খেলাধুলা, বই পড়া ও পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটালে তাদের সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মধ্যে রাগ, অস্থিরতা, একাকীত্ব, উদ্বেগ এবং মোবাইলের প্রতি আসক্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে প্রভাব পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ভিডিও কল ছাড়া স্ক্রিন ব্যবহার না করাই উত্তম। বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে মোবাইল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, বই পড়া, শারীরিক ব্যায়াম এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—খাওয়ার সময়, পড়াশোনার সময় এবং ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে শিশুদের হাতে মোবাইল না দেওয়াই ভালো। সন্তানদের সামনে নিজেরাও অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং সচেতন, নিয়ন্ত্রিত ও বয়স-উপযোগী ব্যবহার নিশ্চিত করাই শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম শর্ত।অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে যেসব সমস্যা হতে পারে:
মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব: ছোট বয়সে বাস্তব খেলাধুলা ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেলে ভাষা, মনোযোগ ও শেখার দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চোখের সমস্যা: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখলে চোখ শুষ্ক হওয়া, ঝাপসা দেখা ও চোখে চাপ পড়তে পারে।
ঘুমের সমস্যা: বিশেষ করে রাতে মোবাইল ব্যবহার করলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।
আসক্তি: মোবাইল ছাড়া থাকতে না চাওয়া, রাগ করা বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
শারীরিক সমস্যা: সারাক্ষণ বসে থাকলে স্থূলতা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।
মানসিক ও সামাজিক প্রভাব: পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কম কাটালে সামাজিক দক্ষতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
বয়সভিত্তিক সাধারণ পরামর্শ:
২ বছরের নিচে: ভিডিও কল ছাড়া স্ক্রিন এড়িয়ে চলাই ভালো।
২–৫ বছর: প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় ১ ঘণ্টা, তাও মানসম্মত শিক্ষামূলক কনটেন্ট এবং অভিভাবকের সঙ্গে।
৬ বছর ও তার বেশি: নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা ও পড়াশোনার ভারসাম্য রাখা।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *