প্রতিবেদন: আব্দুল আজিজ
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জেলা ঠাকুরগাঁও। কৃষি, ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জেলাটি সারা দেশে পরিচিত। একসময় অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার অংশ হলেও ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জেলার নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে একাধিক মত। একটি মতে, একটি প্রভাবশালী ‘ঠাকুর’ পরিবারের নামে এলাকার নাম হয় ঠাকুরগাঁও। আবার অন্য মতে, ব্রাহ্মণ বা ‘ঠাকুর’ সম্প্রদায়ের বসতির কারণেও এ নামের উৎপত্তি।
বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫টি উপজেলা রয়েছে। এগুলো হলো—ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর। জেলায় ৫৩টি ইউনিয়ন এবং প্রায় ৬৫৬টি গ্রাম রয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান জেলা।
ঠাকুরগাঁওকে অনেকেই “বাংলাদেশের রুটির ঝুড়ি” নামে চেনেন। দেশের গম, ধান, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন শস্য উৎপাদনে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। উর্বর মাটি ও কৃষিবান্ধব পরিবেশ এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
জেলার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রাণীশংকৈল জমিদারবাড়ি, নেকমরদ প্রত্নস্থান, টাঙ্গন ব্যারেজ, হরিপুর রাজবাড়ি এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ভাওয়াইয়া গান, জারি গান, লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতি ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
ভারতের সীমান্তঘেঁষা এই জেলা দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি ও সীমান্ত বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি ও পর্যটন খাতে ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও আজ সম্ভাবনাময় একটি জেলায় পরিণত হয়েছে।
ঐতিহ্য, কৃষি, সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতায় সমৃদ্ধ ঠাকুরগাঁও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এক গর্বিত জনপদ। সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ জেলা দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ও পর্যটন অঞ্চলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বহন করছে।
















