Thursday , 30 July 2026 | [bangla_date]
  1. Bypass
  2. Cleaners
  3. Concerts
  4. Editors
  5. Emulators
  6. Engines
  7. Extractors
  8. Retail2Volume
  9. Spoofers
  10. UHD
  11. Unlocks
  12. অর্থনীতি
  13. আন্তর্জাতিক
  14. খেলা
  15. জাতীয়

অবৈধ সুইচগেটে লবণাক্ত পানির আগ্রাসন: নূরনগরের হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি ধ্বংসের মুখে, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রতিবেদক
Admin
July 30, 2026 7:47 am

প্রতিবেদন: গাজী হাফিজুর রহমান

শ্যামনগর প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের কুলতলী, দুরমুজখালী, হাজিপুর, কাটাখালী, রাজাপুর ও রামচন্দ্রপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে মাছের ঘের পরিচালনার অভিযোগে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে নেমে এসেছে চরম সংকট। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নদীর বাঁধে একাধিক অবৈধ সুইচগেট ও পাইপ (স্থানীয়ভাবে ‘কল’) স্থাপন করে জোয়ারের লবণাক্ত পানি আবাদি কৃষিজমিতে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার বিঘা উর্বর কৃষিজমি আজ চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় এসব এলাকায় ধান, পাট, ডাল, তিল, বিভিন্ন শাকসবজি ও মৌসুমি ফসলের সমৃদ্ধ আবাদ হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে মাছের ঘেরে রূপান্তর করার ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে কোনো ধরনের কৃষি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, হাজারো কৃষক ও কৃষিশ্রমিক জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কুলতলী ও দুরমুজখালী এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা লবণাক্ত পানি ধীরে ধীরে হাজিপুর, কাটাখালী, রাজাপুর, রামচন্দ্রপুরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু কৃষিজমিই নয়, বসতভিটা, পুকুর, গাছপালা ও স্থানীয় পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে এলাকার অধিকাংশ গাছপালা শুকিয়ে মারা গেছে। নতুন করে গাছ জন্মাতে পারছে না, সবুজায়ন কমে গেছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। ছায়াবৃক্ষের অভাবে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করছে। এলাকাবাসীর মতে, একসময়ের সবুজ-শ্যামল জনপদ আজ ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী এলাকায় পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ সুইচগেট ও পাইপ স্থাপনের বৈধতা চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঘের মালিকরা অতীতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। পরে হাইকোর্ট ওই রিট খারিজ করে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ঘের ব্যবসায়ী ও কল মালিক প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো অবৈধ সুইচগেট ও পাইপ চালু রেখেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের ঘটনাও ঘটেছে। এতে সরকারি বাঁধ, কৃষিজমি এবং জনবসতি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী অবিলম্বে সব অবৈধ সুইচগেট ও পাইপ অপসারণ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ বন্ধ, নদীর বাঁধ সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সম্পাদকের নোট:

এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আদালত-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট সংরক্ষিত রয়েছে। পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেসব তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথির বিশ্লেষণ এবং অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত

পঞ্চগড়ের উন্নয়ন ও বাস্তব চিত্র: সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামো ও বন্যা ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ

hello world

hello world

আখাউড়া রেলস্টেশন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক যোগাযোগে ভোগান্তি

চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলা বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কাটেনি, অব্যাহত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

সমাজসেবক ও সফল কৃষক মোহাম্মদ নাজির হোসেন: কৃষি, খামার ও মানবসেবায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

বাংলাদেশের টাকার ইতিহাস: পণ্য বিনিময় থেকে আধুনিক মুদ্রা ব্যবস্থার দীর্ঘ যাত্রা

ধানদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান পরিস্থিতি: নাগরিক সেবায় উন্নয়নের প্রত্যাশা, সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ চান এলাকাবাসী

নূরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করার জোর দাবি

ঠাকুরগাঁও: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার এক অনন্য জেলা

গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে চালকরা