নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক আমার স্বাধীনতা
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার জোয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি (আস্কর কিল) এলাকায় নদীর লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে কৃষিজমি ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ভেড়িবাঁধ দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি ভেঙে কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। ভেড়িবাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজির হোসেন বলেন, “ভেড়িবাঁধটি দ্রুত মজবুত করে ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হলে লবণাক্ত পানির আগ্রাসন অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং রাস্তার ওপর ইটের সলিং করা হলে একদিকে কৃষিজমি লবণাক্ত পানির ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিরও অবসান হবে। এতে এলাকার কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতি ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি শক্তিশালী ভেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ইটের সলিং রাস্তা বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
















